মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছুবপুর এলাকায় সোনিয়া আক্তার (২৫) নামে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মেরে চার মাসের সন্তান নষ্টের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার প্রতিবেশি সোবহান মিয়ার (৬০) বিরুদ্ধে। সোনিয়া আক্তার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছুবপুর এলাকার কালাম মিয়ার (৪০) স্ত্রী।
সোনিয়া আক্তারের স্বামী কালাম মিয়া এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানায় ২ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে দেখা গেছে সোবহান মিয়া (৬০) এবং তার স্ত্রী লাকি বেগম (৫০) কে বিবাদি করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইছুবপুর এলাকার কালাম মিয়ার ক্ষেতের সবজি পাশের বাড়ির সোবহান মিয়ার গরু খেয়ে ফেলে। তখন কালাম মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার গরু তাড়িয়ে দেন। এ সময় সোবহান মিয়ার স্ত্রী আকলিমা ওরফে লাকি বেগমের সহিত কথা কাটাকাটি হয় সোনিয়ার। একপর্যায়ে সোবহান মিয়া ও তার স্ত্রী সোনিয়া বেগমকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এতে সোনিয়া বেগমের পেটে ব্যাথা শুরু হলে শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়ার পেটে থাকা ৪ মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার রিপোর্ট আসে। মারামারির ঘটনায় সোনিয়া বেগমের ৩ বছরের ছোট শিশু সন্তান রবিউলও আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে জানা যায়।
বুধবার (২৫ জুলাই) সকালে সোনিয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে সোনিয়া বেগমের স্বামী কৃষক কালাম মিয়া জানান, বুধবার সকালে আমার স্ত্রীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরু কর্তৃক ক্ষেতের সবজি খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী সোবহান মিয়া ও তার স্ত্রী লাকি বেগমের সহিত কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার গর্ভবতী স্ত্রী’র পেটে তারা লাথি মেরে বাচ্চাটি মেরে ফেলেছে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের এনেসথেসিয়া বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. এনামুর রশিদ দিপু অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়া বেগমের ৪ মাসের গর্ভের বাচ্চার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখন তারা সোনিয়াকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পেইন ওঠার ইনজেকশন দিয়ে নরমাল ডেলিভারি করে মৃত বাচ্চাটি বের করে আনবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে সোবহান মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সোবহান মিয়ার চাচাতো ভাই সাবেক সদর ইউপি সদস্য মনির মিয়া গণমাধ্যমকর্মীকে জানান, তিনি শুনেছেন সোবহান মিয়ার স্ত্রী ও কালামের স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার গণমাধ্যমকর্মীকে জানান, ডাক্তারি সনদ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২ দিন ৯ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
২ দিন ২৩ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৩ দিন ৪ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৬ দিন ১৩ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
৭ দিন ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৯ দিন ২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে