বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের স্বপ্নের পায়রা সেতু পরিদর্শন চশমা নিয়ে চিলমারীতে জামান বিজয়ী ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’-ডকুমেন্টারি নির্মাণে ভোলা জেলায় ১ম হয়েছে লালমোহন হা-মীম স্কুল ৩ দিন ধরে পানি নেই বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, চরম দুর্ভোগে রোগীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নার্সের অবহেলায় হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ দক্ষিনী সিনেমার সেরা অভিনেতা 'মহেশ বাবু' বরিশাল রেঞ্জ'র শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসন বরিশাল জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উদ্যোগে দুস্থ অসহায় মানুষকে আর্থিক সহায়তা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুট ওভারব্রিজ প্রয়োজন সড়ক দূর্ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়র নিহত করোনাভাইরাস : সবচেয়ে কম শনাক্তের দিনে মৃত্যুশূন্য বরিশাল পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণে যেমনি পাশে আছি, তেমনি তাদের শৃংখলা রক্ষার্থে কঠোর থেকে কঠোরতম অবস্থানে রয়েছি-বিএমপি কমিশনার লক্ষ্মীপুরের মির্জাপুর এলাকার মাওঃনজীর আহমদ আর নেই লক্ষ্মীপুরের মির্জাপুর এলাকার মাওঃনজীর আহমদ আর নেই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী দূর্গা সাগর দিঘি ও কালেক্টরেট পুকুরে পাছের পোনা অবমুক্ত বরিশালে বোনের জমি-ফ্লাট দখলে নিতে মাকে বাসা থেকে বের করে দিলো দুই ছেলে ফরিদপুরে কাশফুলের রাজ্য শেরপুরে মুজিব শতবর্ষ জেলা দাবা লীগ শুরু আজ ॥ শ্রীবরদীতে পুলিশের অভিযানে হেরোইনসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পতন নিয়ে কলামিস্টদের ভাবনা

সায়েম আহমাদ - এডিটর

প্রকাশের সময়: 19-06-2021 08:47:08

Photo caption :

ইসরায়েলে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পতন হয়েছে। ইরানের সাথে দ্বন্দ্ব কিংবা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনদের উপর হামলার কারনে সারা বছরই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কট্টর এই ইহুদি নেতার গদি হারানোর পর ইসরায়েল নতুন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও কট্টর ফিলিস্তিন বিরোধী বলে সংবাদমাধ্যম গুলোতে খবর বেরিয়েছে। ক্ষমতায় এসেই গাঁজায় হামলা করেছে। এতে ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানের আশা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে। ঐতিহাসিক এই সংকটের ভূত ভবিষ্যত নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জামিন আহমদ কথা বলেছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে লিখে এমন ক'জন তরুণ কলামিস্টদের সাথে।


'নতুন সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা'


ডানপন্থী,মধ্যমপন্থী, বামপন্থী, এমনকি একটি আরব মুসলিম দল সহ মোট ৮ দলের সমন্বয়ে ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠিত হয়েছে যা বিবেচিত হচ্ছে নজির বিহীন ঘটনা হিসাবে।আদর্শগত অনেক অমিল থাকা সত্ত্বেও লিকুদ পার্টির নেতা এবং এক যুগ ক্ষমতায় থাকা বেনিইয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ব্যাপারে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছে। সদ্য শেষ হওয়া গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার পর নতুন এ সরকার গঠিত হওয়ায়, সংগত কারনেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই সরকারের আচরণ কেমন হবে বা ফিলিস্তিনি সংকট নিরসনে আদৌ কোন অগ্রগতি হবে কিনা এটার দিকে সবার নজর রয়েছে। গত ৭২ বছর ধরে যতগুলো সরকারই ইসরায়েলের ক্ষমতায় এসেছে তাদের প্রত্যেকের নীতি আদর্শ বলতে গেলে একই ছিলো।এদিকে এই সরকার আদৌ চার বছর পার করতে পারবে কিনা তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। তার কারণ দলগুলোর  আদর্শগত ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। ইয়ার লাপিদ এবং নাফতালি বেনেট এই দুই নেতা দুই বছর করে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।প্রথম দুই বছর প্রধান মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন কট্টর ডানপন্থী নেতা নাফতালি বেনেট।নাফতালি বেনেট কতটা ফিলিস্তিন বিদ্বেষী তা তার একাধিক বক্তব্যে স্পষ্ট। ২০১৩ সালে একবার মন্তব্য করেছিলেন'বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি নয়,বরং হত্যা করা উচিত'।'ইসরায়েলের উচিত গাজা ও পশ্চিম তীর দখল করে নেওয়া।মাত্র ছয় আসন থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার ভাগাভাগিতে দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন।এখানে একটা বিষয় খুবই উল্লেখ করার মত। সেটি হচ্ছে, এটা যেহেতু জোট সরকার আর এখানে অনেকগুলো দল রয়েছে। সুতরাং কোন দলই নিজের দলের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারবে না।তাহলে ঐক্যে ফাটল ধরবে আর সেই সুযোগটিই নিতে চান নেতানিয়াহু ।নেসেটে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া লিকুদ পার্টিকে হয়তো সে সুযোগ আপাতত দিতে চাইবে না নতুন সরকার।মোদ্দাকথা ইসরায়েলি নীতির কোন পরিবর্তন হবে না।

মোঃ শহীদুল ইসলাম 

আধুনিক মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


'ফিলিস্তিন সংকট জিইয়ে রাখা আত্নঘাতী হবে'


নিজের ক্ষমতা বাঁচানোর জন্য চেষ্টার কমতি রাখেননি নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনে সাম্প্রতিক সময়ে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তার মূলে ছিল নেতানিয়াহুর ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার তীব্র অভিপ্রায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ফিলিস্তিনি শিশুদের গগণবিদারী আর্তনাদ যেন অভিশাপ রূপে হানা দিয়েছে নেতানিয়াহু'র মসনদে। ১২ বছর ধরে কুক্ষিগত করে রাখা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয়েছে নেতানিয়াহুকে। ইসরায়েলে জোট সরকার গঠনের জন্য সম্মত হয়েছেন ইয়ার লাপিদ ও লাপতালি বেনেট। নতুন সরকার গঠনকে ঘিরে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন অনেকে। সাধারণ মানুষের ধারণা স্থায়ী সমাধানে না পৌঁছালেও ফিলিস্তিন ইস্যুকে ঘিরে কার্যকরী কোনো সাময়িক সমাধান প্রদানে সচেষ্ট হবে নবনির্বাচিত সরকার। কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে অবধারিতভাবেই বলা যায়, সরকার পরিবর্তন হলেও ইসরায়েলিদের নীতির কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিন সমস্যাকে জিইয়ে রাখার পেছনে ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এত সহজেই এই সমস্যার কাঙ্ক্ষিত সমাধান সম্ভব নয়। তবে আমরা আশা রাখতেই পারি, নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানের পথে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, ফিলিস্তিনের অধিবাসীদের জন্য স্থায়ী রাষ্ট্রের সার্বজনীন স্বীকৃতি মিলতে আরো কত রক্তাক্ত প্রান্তর দেখতে হবে?

ফারহান ইশরাক 

শিক্ষার্থী, ব্যাংকি অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


'মুসলিম সংগঠন, জাতিসংঘ ও আমেরিকার ভূমিকাই মুখ্য'


গত দু'বছরে চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কিন্তু নেতানিয়াহুকে অপসারণ করা যায়নি। সম্প্রতি বিরোধী দলগুলোর সমঝোতার মাধ্যমে অবসান ঘটেছে নেতানিয়াহু যুগের। একযুগ ক্ষমতায় থেকে সম্প্রসারণবাদী নীতিতে ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করেছে তার সরকার। মার্কিন মদদপুষ্ট হয়ে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধপরাধ দুটোই হয়েছে তার আমলে। কিন্তু কোন বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি। বস্তুত, নেতানিয়াহু যুগের অবসান ঘটলেও ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান খুব শীঘ্রই হচ্ছে না। তার পরে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মতো নাফতালি বেনেট ব্যক্তি। যিনি নেতানিয়াহুর চেয়েও কট্টরপন্থী। দায়িত্ব নেওয়ার পরে আগ্রাসী হলে ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ফিলিস্তিন সংকটের সুরাহার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ১৯৭৪ সালে গোল্ড মায়ারের কাছ থেকে ইতজাক রাবিন ক্ষমতা নিয়ে প্রথম মেয়াদে আগ্রাসী থাকলেও ইহুদিদের কাছে ভালো ছিলেন। কিন্তু ১৯৯২ সালে ক্ষমতায় এসে ইয়াসির আরাফাতের সাথে আসলো চুক্তি করলে (৯৩) চরমপন্থীরা তাকে হত্যা করে। তাই কোন প্রধানমন্ত্রী চাইলেও এই সংকটের ইতি ঘটবে, তার বিশ্বাস করা দুরূহ ব্যাপার। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে দুই রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে সমাধান হতে পারে। কিন্তু আমেরিকা ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ দেখে না। ইসরায়েলি পুলিশের গুলিতে যখন শত শত ফিলিস্তিনি শাহাদাত বরণ করে, মিসাইল হামলায় যখন আকাশচুম্বী ভবনগুলো নিমেষেই ধ্বসে পড়ে তখনও বাইডেন-ব্লিংকেনরা ইসরায়েলের পক্ষেই সাফাই গায়। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সংকট সমাধানে মুসলিম সংগঠন, জাতিসংঘ এবং আমেরিকাকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায়, তাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন চিরকালই জরাজীর্ণ থেকে যাবে। সংকট রূপ নেবে মানবিক বিপর্যয়ে। 

সাইফুল ইসলাম হাফিজ 

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


'ইসরায়েলী আগ্রাসন বন্ধে চাই আন্তর্জাতিক উদ্যােগ'


রাজা যায় রাজা আসে তবুও হয়না নীতির পরিবর্তন। এই বাক্যটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যেমন সত্য একইভাবে সত্য দখলদার ইসরাইলের ক্ষেত্রেও। ইসরাইল অভিবাসী হয়ে আরব ভূমিতে প্রবেশ করে এখন আরব রাষ্ট্রগুলোকে নাকে খত দিয়ে নাচাচ্ছে। নিঃসন্দেহে বলা যায় আরব ভূখণ্ডে যত গোলযোগ সৃষ্টি হয় তার পেছনে সব সময় ইসরাইলের হাত থাকে। ফিলিস্তিনের সাথে ইসরাইলের ১১দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতি হয়েছে কদিন আগে। এই যুদ্ধের পেছনের মূল হোতা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিইয়ামিন নেতানিয়াহু। ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্যই মূলত ফিলিস্তিনে অবৈধভাবে আগ্রাসন চালানো শুরু করে নেতানিয়াহু সরকার। ২০০৯ সাল থেকে টানা ১২ বছরের ক্ষমতার ইতি টানতে হচ্ছে দখলদার নেতানিয়াহুকে। বছরজুড়ে তিন দফা নির্বাচন করেও সরকার গঠনের মত আসনে জয় লাভ করতে পারেনি নিয়াহু। এদিকে ইসরাইলে নতুন জোট সরকার গঠন করার জন্য ঐকমত্যে পৌঁছেছেন ইয়ার লাপিদ ও লাপতালি বেনেট। বেনেট আরবপন্থী হলেও ইসরাইলের স্বার্থ বাদ দিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ নিয়ে কখনোই মাথা ঘামাবে না। তাই তিক্ত হলে সত্য ইসরাইলে রাজার পরিবর্তন হলেও নীতির পরিবর্তন হবে না।

সাইফুল বিন শরীফ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ


'সংকট সমাধানের আশা ক্ষীণ'


নেতানিয়াহুর বিদায় ও ফিলিস্তিন সংকট অবশেষে দীর্ঘ ১২ বছর পরে ইসরায়েলে শেষ হতে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর শাসনকাল। পরপর চারটি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয় বেনিইয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। প্রধানমন্ত্রীর মসনদে আরও একবার বসার প্রত্যাশায় তিনি জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কট্টর ডানপন্থী নেতা বেনেট নাফতালিকে । কিন্তু নেতানিয়াহুর এক সময়ের চিফ অফ স্টাফ বেনেট নাফতালি জোট গড়েন মধ্যপন্থী দল ইয়েস আতিদ পার্টির সাথে। এর ফলে আগামী দুই বছরের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন নাফতালি এবং পরবর্তী দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন ইয়েস আতিদ পার্টির নেতা ইয়াইর লাপিদ। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, ইসরায়েলে সরকারের পরিবর্তনের সাথে সাথে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যের আদৌ কোন পরিবর্তন ঘটে কিনা। নেতানিয়াহুর থেকেও আরও বেশি কট্টরপন্থী, ইহুদিবাদী নেতা বেনেটের শাসনামলে ফিলিস্তিনিদের জন্য ভাল কিছু অপেক্ষা করছে এ কথা আসলে কেউই বলবে না। বেনেটের মতে- “ পশ্চিমতীর অধিকৃত নয়, কারণ এখানে কখনও ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র ছিল না”। তাই  বেনেটের দুই বছরের শাসনামলে অসহায় ফিলিস্তিনিদের জন্য ভাল কিছু অপেক্ষা করছে না বলেই মনে হচ্ছে।  

আফসানা রিজোয়ানা সুলতানা 

কৃষিতত্ত্ব বিভাগ  

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


'দ্বিপাক্ষিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সমস্যা সমাধানের উপায়'


দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নির্যাতন, নিপীড়ন ও সর্বশেষ হত্যাযজ্ঞের স্বীকার হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়। যার মধ্যে ফিলিস্তিনিরা অন্যতম। অতি সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ আপাতত অবসান ঘটেছে। কার্যত,এ যুদ্ধের পর ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দীর্ঘ মেয়াদে শাসন করা নেতানিয়াহু যুগের অবসান হয়েছে। মূলত,তিনি সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, নিতানিয়াহুর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন কট্টর ডানপন্থি নাফতালি বেনেট। ৮ টি বিরোধী দল ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠন করতে রাজি হয়েছে। বর্তমান ইসরাইলের রাজনীতিতে পালাবদলে হাওয়া লাগলেও ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে তাদের নীতির কোন পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা অনুচিত। পূর্বের ন্যায় নতুন প্রধানমন্ত্রীও ফিলিস্তিন ভূমি অবৈধভাবে দখল এবং নির্যাতন অব্যাহত রাখবে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয় নাফতালি বেনেট ফিলিস্তিনিদের সাথে কতটা নমনীয় আচরণ করেন! তবে ইসরাইল-ফিলিস্তিন দীর্ঘ ৭৩ বছরের জিইয়ে রাখা সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে দ্বি-পাক্ষিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। আশা করি,দীর্ঘ দিনের সংকট সমাধানে ইসরাইলের নতুন প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনবাসীর সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে দ্বি-পাক্ষিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।


মোঃ রাশেদ আহমেদ

ব্যবস্থাপনা বিভাগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।


Tag
আরও খবর