◾শেখ আব্দুল্লাহ: বাংলাদেশ জুড়ে অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, ডোবা জালের মতো বিস্তৃত রয়েছে। এসব অসংখ্য জলাশয় থাকার কারনে চাষাবাদ, পশু-পাখি পালন, গৃহস্থালির কাজ ইত্যাদি যেমন সহজ হয়ে দাড়িয়েছে, তেমনি প্রতিবছর ব্যাপক হারে জান ও মালের ক্ষতি হওয়ার কারনে এ জলাশয়গুলো মানুষের কাল হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের দেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান; প্রাণ হারানোর দিক থেকে শিশুদের সংখ্যাই বেশি ।
এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশের শিশুরা নিউমোনিয়া রোগের পরেই পানিতে ডুবে বেশি প্রাণ হারায়। তাই শিশুদের এই অকাল মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে আমাদের সর্বস্তরের মানুষ সচেতন হতে হবে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমাতে আগে জানতে হবে কোন কোন কারনে শিশুরা পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে; পরে এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিষয়ে জানতে হবে। শিশুদের পানিতে ডুবার অন্যতম কারন হলো বাবা-মায়ের অসচেতনতা। গ্রামে দেখা যায় বাবারা জীবিকার তাগিদে বেশি সময় বাইরে বাইরে থাকেন এবং মায়েরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গৃহস্থালি কাজের ব্যস্ত হয়ে পড়েন; বাচ্চাকে সঠিকভাবে দেখশোনা করতে পারেন না। এর ফলে একটা বাচ্চা তার মায়ের দৃষ্টি গোচরে বাড়ির পাশে পুকুর বা জলাশয়ে কাছে গিয়ে কৌতূহল বসতে পানিতে নেমে যায় এবং সাঁতার না জানার কারনে পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। এছাড়াও পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো সঠিক তত্ত্বাবধান ও শিক্ষার অভাব। একজন শিশুকে সাঁতার শিখানোর সঠিক বয়স ৫ বছর। কিন্তু সাঁতার শেখানোর পর্যাপ্ত বয়সেও একটা শিশুকে সাঁতার শিখানো হচ্ছে না, ফলে একটা শিশুর সাঁতার শেখার পর্যাপ্ত বয়স থাকার সত্বেও পানিতে ডুবে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। বাড়ির পাশে অপ্রয়োজনীয় ডোবা বা জলাশয় থাকাটাও শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
তাই আমরা একটা শিশুর অকাল মৃত্যু ঠেকাতে বেশকিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে পারি। আর এ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
পানিতে ঢুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার প্রথম ধাপ হলো বাবা-মায়ের সচেতন হওয়া। একটা শিশু হাটা শেখার পরে তাকে চোখে চোখে রাখতে হবে এবং বাড়ির পাশের পুকুর বা জলাশয়ের দিকে যেন না যায়, সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। বাড়ির পাশের পুকুর বা জলাশয়ের চারিদিকে বেড়া দিতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় পুকুর বা গর্ত-ডোবা থাকলে বন্ধ করে দিতে হবে। এছাড়াও একটা শিশুর ৫ বছর বয়স হওয়ার পরে অবশ্যই সাঁতার শেখার গুরুত্ব দিতে হবে। সাঁতার শেখার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটা শিশুকে অবগত করতে হবে। একজন শ্রেণি শিক্ষকও এক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা পালন করতে পারেন। তিনি সাতার শেখার শারীরিক প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সাঁতার শিখতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। এছাড়াও বেশ কিছুদিন আগের থেকে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমাতে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যদি এই পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে কার্যকর করা হয় তাহলে সরকার ও সর্বসাধারণের প্রচেষ্টায় শিশু মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
শেখ আব্দুল্লাহ
লেখক ও সংগঠক
২৫ দিন ১৮ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৮৭ দিন ৪ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১০৯ দিন ৫ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১১১ দিন ১৬ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
১১৯ দিন ১০ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
১২৩ দিন ৪০ মিনিট আগে
১৩৩ দিন ৫ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
১৩৬ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে