◾শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর মুদ্রা হিসেবে 'টাকা' প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম কাগুজে মুদ্রা ১ টাকার নোট। ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ এ নোট প্রচলনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব কাগুজে মুদ্রা চালু হয় এবং একই বছরে ৫ টাকা, ১০ টাকা ও ১০০ টাকার মূল্যমান নোট ঘোষণা করা হয়। আর এর কিছুদিন বাদে কাগুজে মুদ্রার পাশাপাশি ১,৫,১০ ও ২৫ পয়সার ধাতব মুদ্রা চালু করা হয়।
আমরা বর্তমান প্রজন্মের মানুষ এসব পয়সার সাথে তেমন পরিচিত নয়। আর তাই তো রূপকথার গল্পের মতো দাদা-দাদি, নানা-নানি বা বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের কাছে আমরা জানতে পারি তারা মাত্র ৫ পয়সা বা ১০ পয়াসার বিনিময়ে অনেক পণ্য ক্রয় করতে পারতেন। এমনকি কারো কারো মুখে শোনা যায় একসময় মাত্র ২৫ পয়াসার বিনিময়ে এক ব্যাগ ভর্তি বাজার করে আনতে পারতেন। বর্তমান এসব ধাতব মুদ্রার ব্যবহার নেই বললেই চলে। আমরা এসব পয়সার ধাতব মুদ্রার সাথে পরিচিত না থাকলেও ১ টাকা ও ২ টাকা কিংবা ৫ টাকা ধাতব মুদ্রার সাথে সবাই পরিচিত। ১, ২, ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা যথাক্রমে ১৯৭৪, ২০০৪ ও ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয়। বর্তমান বাংলাদেশে এই তিনটি ধাতব মুদ্রার ব্যবহার চালু রয়েছে। কিন্তু এই তিনটি ধাতব মুদ্রা চালু থাকার সত্য বাংলাদেশের বেশ কয়েকটা অঞ্চলে মুদ্রা দুটির ব্যবহার একেবারেই নেই। ছোট খাটো ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় কোনো ব্যবসায়ও এ দুই তিনটা ধাতব মুদ্রার ব্যবহার নেই। একটি দোকানে নিম্নমানের চকলেট বাদে আর তেমন কিছুই ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যায় না। আর ১ টাকার কোনো পন্য বিক্রি করতে না পারায় একজন দোকানির কাছেও ১ টাকর ধাতব মুদ্রার অভাব হয়ে পড়ে। এমতবস্থায় ১ টাকার ধাতব মুদ্রার অভাবে একজন দোকানি চকলেট দিয়ে লেনদেন সারেন অনেক সময়। আবার অপরদিকে দেখা যায় একজন ক্রেতার কাছে ১ টাকার বা ২ টাকার ধাতব মুদ্রা থাকার সত্বেও যদি দোকানিকে দিয়ে সমমূল্যের কোনো পণ্য নিতে চায় দোকানি দিতে রাজি হন না। এমনিভাবে যদি গাড়িওলাকে ভাড়ার টাকা দেওয়া জন্য ১ টাকা বা ২ টাকার ধাতব মুদ্রা দেওয়া হয় তখন তিনি নিতে চান না। কারণ তিনি এই ধাতব মুদ্রা কোন কিছু কিনতে পারবেন না। এছাড়াও যদি ভিক্ষুকদের টাকাগুলো দিতে চায় তারাও টাকাগুলো নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। কারণ সারাদিনের ভিক্ষায় অর্জিত টাকাগুলো নিয়ে কেনাকাটা করতে গেলে চরম বিপাকে পড়তে হবে তাদের। অর্থাৎ সকল ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রেই ধাতব মুদ্রা নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়ছেন সর্বস্তরের মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের মন্তব্য যদি এমতাবস্থা চলতে থাকে তাহলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে ধাতব মুদ্রাগুলে বিলীন হয়ে যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি , বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধাতব মুদ্রার প্রচলন হারিয়ে যাওয়ার আগেই প্রচলন রাখতে দরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে করা। কেননা, এসব কিছুর সাথে আমাদের দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। এগুলোই আমাদের বড় পরিচয়, এগুলোই আমাদের দেশের গৌরব।
লেখক:
শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ
ঢাকা কলেজ, ঢাকা
২৫ দিন ১৮ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৮৭ দিন ৪ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১০৯ দিন ৫ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১১১ দিন ১৬ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
১১৯ দিন ১০ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
১২৩ দিন ৪০ মিনিট আগে
১৩৩ দিন ৫ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
১৩৬ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে