ভোজ্যতেল পরিমাপে কারচুপি ও বিভিন্ন অপরাধে নরসিংদীতে জরিমানা ৩ লাখ টাকা বারইয়ারহাটে আল-আবরার হজ্ব কাফেলার ওমরা কনফারেন্স শেরপুরে বিনা লাইসেন্সে পশুখাদ্য উৎপাদন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা লক্ষ্মীপুর নজরুলের আগমনের শতবর্ষে জেলা সাহিত্য সংসদের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ মিরসরাইয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা কুল্যা টু বাঁকা সড়ক মরণফাঁদে পরিণত দ্রুত সংস্কারের দাবি চন্দনাইশে বেশি দামে ইউরিয়া সার বিক্রি, ডিলারকে জরিমানা লাখাইয়ে পবিত্র জসনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী (স) উদযাপিত। ৪টার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান নিষিদ্ধ, শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ‘কলেজ নাকি কিন্ডারগার্টেন?’ পবিপ্রবিতে র‍্যাগিং: ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি, দুজন হল থেকে বহিষ্কার এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শ্যামনগরে দরিদ্র নারীদের মাঝে ছাগল বিতরণ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে শেরপুরে প্রস্তুতিমূলক সভা ‎সুন্দরবনে বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তাণ্ডব: ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহৃত জাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন ৩০ আগস্ট, তফসিল ঘোষণা লালপুরে স্যালোচালিত গাড়ির ধাক্কায় ইজিবাইক চালক নিহত, চালক আটক ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধভাবে সার মজুদ রাখায় একজনের কারাদন্ড দুইজনের ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা *টেকনাফে র‌্যাবের পৃথক দুইটি অভিযানের একটিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশী এসএমজি উদ্ধার এবং অপর অভিযানে ৩২৭ রাউন্ড তাজা গুলিসহ নারী আটক* চন্দনাইশে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে ২৩ লাখ টাকার ডাকাতি চিলমারীতে "ফ্রেন্ডশিপ (FDIDP) প্রজেক্টের স্টাফ ও সমাজ সেবার" যৌথভাবে (CBR) এপ্রোচ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রকৃতি রক্ষায় সচেতনতা

admin - দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 18-03-2023 03:04:50 am

প্রতীকী ছবি

◾ মো. হাসিবুল হাসান হিমেল 


একটা সময় সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামগঞ্জে জোনাকির অবাধ বিচরণ চোখে পড়ত। বাঁশবাগানে, ঝোপঝাড়ে অসংখ্য জোনাকির দেখা মিলত, এমনকি শহরের উদ্যানগুলোতেও জোনাকিদের মেলা বসত। বর্তমানে শহরে তো দূরের কথা গ্রামগঞ্জেও জোনাকিদের দেখা পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। তবে কি জোনাকিরা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে? এমন চলতে থাকলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না যে জোনাকি পোকা কী! শুধু যে জোনাকি পোকারাই বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে এমন না। আজকাল সকাল-সন্ধ্যায় পাখিদের কলরবও তেমন একটা শোনা যায় না। পাখিদের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসছে পশু ও উপকারী পোকামাকড়দের সংখ্যাও। ফলে প্রকৃতি তার রূপ হারাতে চলছে।

আর এসব কিছুর জন্যই ব্যাপক অর্থে দায়ী মনুষ্য-সৃষ্ট কর্মকাণ্ড। বর্তমানে ব্যাপক হারে বৃক্ষ নিধনের ফলে পাখি ও পোকামাকড় হারাচ্ছে তাদের বাসস্থান এবং প্রকৃতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে কার্বন-ডাই অক্সাইডের মাত্রা। এর ফলে আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে পৃথিবীর তাপমাত্রাও, যা ওজোনস্তর ক্ষতিগ্রস্তের অন্যতম কারণ। সাম্প্রতিককালে পৃথিবীতে বেড়েই চলেছে কলকারখানা ও যানবাহনের সংখ্যা। এগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ুকে করে তুলছে বিষাক্ত যা অন্যান্য প্রাণীসহ মানুষের জীবনকেও ফেলছে ঝুঁকির মধ্যে। অতিরিক্ত কলকারখানা নির্মাণের জন্য আবার ভরাট করা হচ্ছে অসংখ্য নদী। নদীরা মারা যাচ্ছে এবং সেইসঙ্গে প্রকৃতিও হারাচ্ছে তার ভারসাম্য। কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে আবার সেই নদীতেই। এতে একদিকে যেমন পানি হচ্ছে দূষিত অন্যদিকে মাছগুলোর জীবন হচ্ছে বিপন্ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষও।

আজ প্রকৃতির ওপর মানুষের এমন বর্বর আচরণ অর্থাৎ বৃক্ষ নিধন, মাত্রাতিরিক্ত কলকারখানা ও যানবাহন বৃদ্ধি, নদী ভরাট ইত্যাদির জন্য একটি জোনাকি পোকা থেকে শুরু করে পশুপাখি ও মানুষের জীবনও পড়ছে হুমকির সম্মুখে। এমন চলতে থাকলে শিগগিরই পৃথিবী হয়ে উঠবে প্রাণীর বসবাসের অযোগ্য। মানুষ সচেতন না হয়ে প্রকৃতির ওপর এমন নির্মম আচরণ করতে থাকলে মানুষের এই আচরণই একসময় মানুষের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই আসুন আমরা নিজেরাই নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে না দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলি। বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করি, মাত্রাতিরিক্ত নদী-ভরাট ও কলকারখানা নির্মাণ বন্ধ করি সেই সঙ্গে কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও কালো ধোঁয়া যাতে প্রকৃতির ক্ষতি করতে না পারে তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজেদের জায়গা থেকে নিজেরা সচেতন হই এবং অন্যদের সচেতন করে তুলতে পারি তাহলেই আমরা পৃথিবীকে প্রাণীর বসবাসের উপযোগী করে রাখতে পারব। আর রক্ষা পাবে হাজারো জোনাকি পোকা ও পশুপাখি এবং সেইসঙ্গে প্রকৃতি ফিরে পাবে তার আপন সৌন্দর্য। সকাল-সন্ধ্যায় আবার পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাব, সন্ধ্যায় আবার বসবে জোনাকিদের মেলা। এই সুন্দর পৃথিবীটাকে রক্ষা করার দায়িত্ব তো আমাদেরই। আমরা কি পারি না প্রকৃতির সেই হারানো রূপটাকে আবার ফিরিয়ে আনতে? আসুন আমরা আমাদের এই সুন্দর ধরণীকে রক্ষা করতে সবাই একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করি।


লেখক: মো. হাসিবুল হাসান হিমেল
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।

আরও খবর