◾ স্পোর্টস ডেস্ক
বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ১৫১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের কাছে নাস্তানাবুদ জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা ১৪৭ রান করেছে। ফলে ৩ রানে জয় পেয়েছে সাকিব আল হাসানরা।
এ জয়ে রোমান্স থাকলেও শেষে এসে হয় ‘নো বল’ নাটক। ইনিংসের শেষ বলে ব্লেসিং মুজারবানিকে স্টাম্পিং করেন সোহান। আউট হয়ে মুজারবানি মাঠও ছাড়েন। অন্য প্রান্তে থাকা রায়ান বার্লও ছাড়েন মাঠ। তবে টিভি রিপ্লেতে দেখা মেলে স্টাম্পের আগে বল ধরেন সোহান। ফলাফল নো বল। আরও একটি সুযোগ পায় জিম্বাবুয়ে। তবে তা কাজে লাগাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ জয় পায় ৩ রানে।
লক্ষ্য তাড়ায় জিম্বাবুয়ে ব্যাট করতে নামলে প্রথম ওভারেই ওয়েসলি মাধেভেরকে তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় ওভারে তাসকিনই তুলে নেন ক্রেইগ আরভিনকে। বল হাতে ইনিংসের প্রথম বল ডট দেন তাসকিন। পরের বলটি কাভার দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকান ওয়েসলি মাধেভের। তৃতীয় বলটিও বাউন্ডারি হাঁকাতে চেয়েছিলেন মাধেভের কিন্তু টপ এজ হয়ে ডিপ থার্ডে মুস্তাফিজুর রহমানের তালুবন্দি হন। মাত্র ৪ রানেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙে জিম্বাবুয়ের।
১ ওভার বিরতিতে আবারও বল হাতে আসেন তাসকিন।। এবার তৃতীয় বলে তাকে বাউন্ডারি হাঁকান ক্রেইগ আরভিন। পরের বলটি অফ স্টাম্পের কিছুটা বাইরে দেন তাসকিন আর সেই বল তেড়ে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসবন্দি হন আরভিন। ৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ৮ রান করে ফেরেন তিনি। জিম্বাবুয়ে ১৭ রানে হারায় দ্বিতীয় উইকেট।
ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে যখন বল হাতে আসেন মুস্তাফিজ তখন উইকেটে থিতু হওয়ার লড়াইয়ে ছিলেন শন উইলিয়ামস ও মিল্টন সুম্বা। মুস্তাফিজের করা প্রথম বল ঠেকান সুম্বা, পরের বল মিড অফে তুলে মারেন। হাওয়ায় ভাসা বল দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে লুফে নেন সাকিব আল হাসান। এতেই ১৫ বলে ৮ রান করে ফিরতে হয় সুম্বাকে। জিম্বাবুয়ে ৩৫ রানে হারায় ৩ উইকেট।
এরপর ব্যাট হাতে আসেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সিকান্দার রাজা। এসেই প্রথম ২ বল ডট দেন তিনি। তৃতীয় বলটি স্কয়ার লেগ দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়েছিলেন, তবে হাওয়ায় ভাসা বল আফিফ হোসেন দারুণভাবে তালুবন্দি করেন। তাতেই শূন্যতে ফিরতে হয় ভয়ঙ্কর সিকান্দার রাজাকে। জিম্বাবুয়ে ৩৫ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে।
ষষ্ঠ উইকেটে শন উইলিয়ামস ও রায়ান বার্ল মিলে ঘুরে দাঁড়ান। এ জুটি থেকে ৪৩ বলে আসে ৬৩ রান। এরপর এ জুটি ভেঙে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। শেষের নাটকের পর বাংলাদেশ জয় পায় ৩ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। ২টি উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারটা মোটামুটি ভালোভাবে পার করলেও দ্বিতীয় ওভারে শূন্য রানে আউট হন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা দ্বিতীয় বলেই খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি। মুজারবানির বলে রানের খাতা খোলার আগেই দলীয় ১০ রানের মাথায় ফেরেন তিনি।
তিনে ব্যাট করতে আসেন লিটন দাস। শান্তকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন তিনি। রানের গতি ধীর হলেও উইকেটে থিতু হচ্ছিলেন দুজনই। থিতু হয়েও গিয়েছিলেন কিন্তু বিপত্তিটা ঘটালেন নিজেই। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেট খোয়ান লিটন দাস। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে ১২ বলে আসে ১৪ রান। তখন দলের রান ছিল ৩২।
লিটন ফেরার পর আসেন সাকিব আল হাসান। এবার তার সঙ্গে ৪৪ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন শান্ত। তবে ১৩তম ওভারে সাকিব ফেরেন ২০ বলে ২৩ রান করে। এর পরের ওভারে ৪৫ বলে অর্ধশতক তুলে নেন শান্ত। ১৫তম ওভারে দলীয় অর্ধশতক পূরণ করে বাংলাদেশ।
ক্যারিয়ারের ১৪তম টি-টোয়েন্টিতে এসে প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন বাংলাদেশ ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ছিল ৪০।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সুপার টুয়েলভে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে ফিফটি হাঁকান শান্ত। ১৭তম ওভারে বল হাতে এসে শান্তকে থামিয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সিকান্দার রাজা। ওভারের দ্বিতীয় বলে মিড অফে আরভিনের তালুবন্দি হন শান্ত। এতেই শেষ হয় ৫৫ বলে ৭টি চার আর ১টি ছয়ে ৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের।
এরপর শেষ দিকে আফিফ হোসেন ১৯ বলে ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেললে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫০ রান তোলে।
জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন ব্লেসিং মুজারবানি ও রিচার্ড এনগ্রাভা। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট নেন সিকান্দার রাজা ও শন উইলিয়ামস।
৫ দিন ২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৬ দিন ৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১০ দিন ২৬ মিনিট আগে
১১ দিন ৩৯ মিনিট আগে
১১ দিন ৪৬ মিনিট আগে
১৫ দিন ৪ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
২২ দিন ১৭ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
২৫ দিন ৪ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে